মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব রড সিমেন্ট শিল্পে

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে টন প্রতি রডের দাম বেড়েছে ১২ হাজার টাকা সিমেন্টের উপাদানগুলোর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রভাব পড়ছে দেশের সিমেন্টের বাজারে
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে দেশের নির্মাণশিল্প খাতে। এতে করে নির্মাণশিল্পের অতিপ্রয়োজনীয় রড ও সিমেন্টের দাম বাড়ছে হু হু করে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে টনপ্রতি রডের দাম বেড়েছে ১২ হাজার টাকা। সিমেন্টের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ১৫ টাকা। ব্যবসায়ীদের দাবি, যুদ্ধের কারণে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের রড ও সিমেন্ট খাতে।
বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলী হোসাইন আকবর আলী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে রড তৈরির কাঁচামাল স্ক্র্যাপের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে গেছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। তাই বাড়ছে রডের দাম।’

ডায়মন্ড সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আবদুর রহিম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সিমেন্ট তৈরির মূল উপাদান ক্লিংকার ও রাসায়নিকের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে বহুগুণ। দাম সমন্বয় করতে সিমেন্টের দামও বৃদ্ধি করতে হয়েছে।
জানা যায়, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে পণ্য পরিবহনকারী জাহাজগুলোকে যুদ্ধকবলিত এলাকা এড়িয়ে চলতে দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। যা যাতায়াতের সময় ও খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। মার্চ ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক জাহাজের কনটেইনার প্রতি ‘বাঙ্কার সারচার্জ’ ৭০০-৭৫০ ডলার থেকে বেড়ে ২ থেকে ৩ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। যার বড় প্রভাব পড়ছে দেশের রড ও সিমেন্ট খাতে। যুদ্ধকালীন ঝুঁকির কারণে জাহাজগুলোর বিমা খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যা পণ্যের আমদানি মূল্যে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ইস্পাত গলানো এবং সিমেন্টের ক্লিংকার পোড়ানোর জন্য প্রয়োজন হয় প্রচুর বিদ্যুৎ ও তাপের। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়বহুল হয়ে গেছে। যার ফলে কারখানায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ রড ও সিমেন্ট তৈরির অধিকাংশ কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভর। রড তৈরির মূল উপাদান ‘মেল্টিং স্ক্র্যাপ’র আন্তর্জাতিক দাম টনপ্রতি ৫০ ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। সিমেন্টের প্রধান উপাদান ক্লিংকারের দামও বেড়েছে টনপ্রতি ১০ ডলার। বেড়েছে অন্যান্য রাসায়নিকের দামও। যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে দেশের রড-সিমেন্টের বাজারে। ফলে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর খুচরা বাজারে প্রতি টন রডের দাম বেড়েছে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। সিমেন্টের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা। নির্মাণ শিল্পের পাইকারি বিক্রয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ স্টিল করপোরেশনের প্রোপাইটর হাসান রুবেল বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে রড ও সিমেন্টের দাম বাড়ছে। এ কয় দিনে প্রতি টন রডের দাম বেড়েছে টনপ্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। সিমেন্টের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা।
উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে বছরে রডের চাহিদা রয়েছে ৭৫ লাখ মে. টন। সিমেন্টের চাহিদা রয়েছে ৪ কোটি টন। দেশের চাহিদার প্রায় শতভাগ রড ও সিমেন্ট দেশেই উৎপাদন হয়। তবে এসবের কাঁচামালের সিংহভাগ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *